৬৮ সাংগঠনিক জেলার ৬১ আমিরের গড় বয়স ৫৯.২ বছর, ১৮ জন এক দশক বা তার বেশি সময় ধরে দায়িত্বে, ৬ জনের মেয়াদ ২০ বছরের বেশি

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন একই ব্যক্তির দায়িত্বে থাকার চিত্র সামনে এসেছে কুমিল্লা মহানগর কমিটি গঠন ঘিরে সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে। কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ প্রায় ৩০ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি নতুন আমির নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর মধ্যে নেতৃত্বের পদবিন্যাস নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের নেতৃত্ব ও পদের বিন্যাস নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশের মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছিল। আসন্ন মহানগর জামায়াতের কমিটিতে নিজেদের পছন্দের নেতৃত্ব আনয়ন বা প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নেয়। এর জেরে বুধবার রাতে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে মোগলটুলী ফারুকী হাউজে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার জেরে আজ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দলটি। একই সঙ্গে কুমিল্লা মহানগরীর কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

 

এই ঘটনা দলটির জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বে দীর্ঘস্থায়িত্ব, নতুন নেতৃত্বের সুযোগ এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন সামনে আনছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জাতীয় পর্যায়ে তরুণদের সামনে আনার কথা বললেও জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বে সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন নেই বললেই চলে। দেশের ৬৪ জেলায় দলটির ৬৮টি সাংগঠনিক ইউনিটের আমিরদের মধ্যে যাঁদের বয়স জানা গেছে, তাঁদের গড় বয়স ৫৯.২ বছর। তাঁদের কেউই ৪৫ বছরের কম বয়সী নন। অন্যদিকে, ১৮ জন আমির এক দশক বা তার বেশি সময় ধরে একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের বর্তমান টানা মেয়াদ ২০ বছর বা তার বেশি।

 

পিরোজপুরে অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ ১৯৯১ সাল থেকে জেলা আমিরের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রায় ৩৫ বছর ধরে একই পদে আছেন তিনি। খাগড়াছড়িতে সৈয়দ মো. আব্দুল মোমেন ২০০০ সাল থেকে, লক্ষ্মীপুরে মাস্টার রুহুল আমীন ভূঁইয়া ২০০১ সাল থেকে এবং কুমিল্লা মহানগরে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ৩০ বছর ধরে আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন।

 

জামায়াতের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মুখ ও তরুণ নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার ঘোষণার সঙ্গে জেলা পর্যায়ের এই চিত্রের ব্যবধান সামনে এসেছে। নেতৃত্ব নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের ব্যবস্থা থাকলেও দীর্ঘদিন একই ব্যক্তিদের দায়িত্বে থাকা, নতুন নেতৃত্বের বিকাশ এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের সুযোগ নিয়েও সংগঠনটির অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠছে।

 

তরুণদের সামনে আনার ঘোষণা, জেলা নেতৃত্বে প্রবীণরাই

জাতি গঠনে তরুণদের ‘চালকের আসনে’ দেখতে চাওয়ার কথা জামায়াতে ইসলামী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে জানিয়েছিল। এর আগে ওই বছরের অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার সময় দলটি জানায়, তাদের প্রায় ৮০ শতাংশ প্রার্থী নতুন মুখ এবং ৩৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নেতাদের সামনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু বেঙ্গল লেন্সের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে নেতৃত্বের বয়সের চিত্র ভিন্ন। ৬৮টি সাংগঠনিক ইউনিটের মধ্যে ৬১ জন আমিরের বয়স জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে ৫০ জনের বয়স ৫০ থেকে ৬৯ বছরের মধ্যে। ৩০ জনের বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি, যা বয়স জানা আমিরদের প্রায় ৪৯ শতাংশ। ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী আমির রয়েছেন সাতজন। জামালপুরের আমিরের বয়স ৭৫ বছর এবং ভোলার আমিরের বয়স ৭৫ বছরের বেশি।

 

৩৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নেতাদের সামনে আনার ঘোষণার সঙ্গে জেলা নেতৃত্বের তুলনা করলে ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়। ৩৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সসীমার মধ্যে রয়েছেন মাত্র দুজন, দুজনেরই বয়স ৪৫ বছর। তাঁরা হলেন নড়াইলের আতাউর রহমান বাচ্চু ও লালমনিরহাটের অ্যাডভোকেট মো. আবু তাহের। চুয়াডাঙ্গার আমির মো. রুহুল আমিনের বয়স ৪৬ বছর।

 

বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে প্রবীণ নেতৃত্ব বরিশাল বিভাগে। সেখানকার ছয় আমিরের গড় বয়স প্রায় ৬৬ বছর। তুলনামূলক কম বয়সী নেতৃত্ব রয়েছে খুলনা বিভাগে, যেখানে আমিরদের গড় বয়স প্রায় ৫৫.৫ বছর। ৫০ বছরের কম বয়সী চার আমিরের দুজনই খুলনা বিভাগের।

 

দুই বছরের মেয়াদ, দায়িত্বে কয়েক দশক

গঠনতন্ত্র মোতাবেক জামায়াতের জেলা আমিরদের সাংগঠনিক মেয়াদ দুই বছর। তবে অনেক জেলায় নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটছে দীর্ঘ বিরতির পর। দায়িত্ব গ্রহণের সময় জানা গেছে এমন ৬১ জনের মধ্যে ১৮ জন এক দশক বা তার বেশি সময় ধরে একই পদে রয়েছেন। ছয়জনের বর্তমান টানা মেয়াদ ২০ বছর বা তার বেশি।

 

দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন জয়পুরহাটের ফজলুর রহমান সাঈদ, যিনি ২০০৬ সাল থেকে আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন। বরিশালের মাওলানা আবদুল জব্বার ২০০৯ সাল থেকে এবং রাজবাড়ীর মো. নুরুল ইসলাম ২০০৯ সালের ডিসেম্বর থেকে দায়িত্বে রয়েছেন। গাজীপুরের ড. জাহাঙ্গীর আলম ২০১৩ সাল থেকে জেলা আমির।

 

কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো নেতারাই বিরতির পর আবার দায়িত্বে ফিরেছেন। কুড়িগ্রামে অধ্যাপক মো. আজিজুর রহমান স্বপন ১৯৯৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় জেলা আমির ছিলেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি আবার দায়িত্ব পান। জামালপুরের মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার ১৯৯০ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত জেলা আমির ছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি আবার দায়িত্ব নেন। বর্তমানে তাঁর বয়স ৭৫ বছর। এসব উদাহরণ জেলা নেতৃত্বে দীর্ঘস্থায়িত্বের চিত্র তুলে ধরে। তবে দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট নেতারা নির্বাচিত হননি।

 

নতুন আমির এসেছেন, বদলায়নি নেতৃত্বের বয়স

২০২৪ সাল থেকে ১৭টি সাংগঠনিক জেলায় নতুন আমির দায়িত্ব পেয়েছেন। অর্থাৎ, মোট সাংগঠনিক ইউনিটের প্রায় এক-চতুর্থাংশে নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের সঙ্গে প্রজন্মগত পরিবর্তন ঘটেনি।

 

নতুন দায়িত্ব পাওয়া ১৭ জন আমিরের গড় বয়স ৬১.৩ বছর, যা সব আমিরের গড় বয়সের চেয়ে বেশি। তাঁদের মধ্যে চারজনের বয়স ৭০ বছর বা তার বেশি। তাঁরা বগুড়া, জামালপুর, কুষ্টিয়া ও সিলেটের আমির।

 

নতুনদের মধ্যে ৫০ বছরের কম বয়সী রয়েছেন মাত্র একজন, লালমনিরহাটের অ্যাডভোকেট মো. আবু তাহের। ৪৫ বছর বয়সী এই নেতা এর আগে জেলা সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

কুষ্টিয়ায় জেলা আমির অধ্যাপক আবুল হাশেমের মৃত্যুর পর ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ৭০ বছর বয়সী আব্দুল গফুর ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পান। সিলেটে মাওলানা হাবিবুর রহমান ২০২৪ সালের নভেম্বরে আমির হন। তাঁর বয়স ৭০ বছর। এর আগে তিনি সিলেট জেলা দক্ষিণের আমির ছিলেন।

 

অর্থাৎ, নেতৃত্বে পরিবর্তন ঘটলেও নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের বড় অংশ বয়সের দিক থেকে প্রবীণ। ফলে নতুন ব্যক্তি দায়িত্ব নেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা পাওয়ার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

 

ছাত্রশিবির থেকে মূল দল, তরুণদের জন্য আলাদা পথ নেই

জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামোতেও তরুণ নেতৃত্বের বিকাশ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিএনপির যুবদলের মতো আলাদা যুব সংগঠন নেই দলটির। ছাত্রদের জন্য ইসলামী ছাত্রশিবির এবং ছাত্রীদের জন্য ইসলামী ছাত্রী সংস্থা থাকলেও ছাত্রজীবন শেষ করা কর্মীদের জন্য পৃথক যুব সংগঠন নেই।

 

ফলে ছাত্ররাজনীতি শেষ করে জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে চাইলে কর্মীদের মূল দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় যুক্ত হতে হয়। সেখানে দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ, নেতৃত্বে ওঠার ধাপ এবং জেলা পর্যায়ে নতুনদের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া জটিল হওয়ার কারণে অনেকেই শিবির থেকে বিদায় নেওয়ার পরে জামায়াতের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয় না। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জামায়াতের আমির নির্বাচিত হন দলের পূর্ণ সদস্য হিসেবে পরিচিত রুকনদের গোপন ব্যালটে। দলের আমির শফিকুর রহমান ২০২৫ সালের অক্টোবরে টানা তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন। অর্থাৎ, দলে নেতৃত্ব নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। তবে রুকনদের মোট সংখ্যা, তাঁদের বয়সভিত্তিক বিন্যাস, জেলা পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরন এবং নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে না থাকায় এই প্রক্রিয়ায় প্রজন্মগত প্রতিনিধিত্ব কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, তা নির্ধারণ করা কঠিন।

 

জাতীয় পর্যায়ে অবশ্য ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের নির্বাচনী রাজনীতিতে আনার নজির রয়েছে। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত ছাত্রশিবিরের সাবেক ১৬ জন কেন্দ্রীয় সভাপতি বা সেক্রেটারি জেনারেলকে প্রার্থী করেছিল। তাঁদের মধ্যে তিনজন ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে ছিলেন।

 

কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে সাবেক ছাত্রনেতাদের প্রার্থী করা এবং জেলা পর্যায়ে তাঁদের সাংগঠনিক নেতৃত্বে জায়গা পাওয়া এক বিষয় নয়। জেলা আমিরদের বয়সের পরিসংখ্যান বলছে, নেতৃত্বের শীর্ষ পদে তরুণদের অংশগ্রহণ এখনো সীমিত।

 

জেলা আমির থেকে সংসদ সদস্য

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে পাঁচজন জেলা আমির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের চারজন খুলনা বিভাগের। নির্বাচনের পরও তাঁরা জেলা আমিরের দায়িত্বে রয়েছেন।

 

নড়াইলের আতাউর রহমান বাচ্চু ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জেলা আমিরের দায়িত্বে আছেন। তাঁর বয়স ৪৫ বছর। চুয়াডাঙ্গার আমির মো. রুহুল আমিনের বয়স ৪৬ বছর; তিনি ২০২৩ সাল থেকে দায়িত্বে রয়েছেন। মেহেরপুরের মো. তাজউদ্দীন খান ২০১৫ সাল থেকে আমির এবং তাঁর বয়স ৫২ বছর। ঝিনাইদহের আলী আজম মো. আবুবকর প্রায় ২০১৮ সাল থেকে দায়িত্বে রয়েছেন; তাঁর বয়স ৫৫ বছর। পাবনার অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে আমিরের দায়িত্বে রয়েছেন।

 

এই পাঁচজনের মধ্যে নড়াইল ও চুয়াডাঙ্গার আমির তুলনামূলক কম বয়সী। তবে সীমিতসংখ্যক উদাহরণ থেকে বয়সের সঙ্গে নির্বাচনী সাফল্য কিংবা নেতৃত্বের মেয়াদের সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা যায় না। বরং এসব উদাহরণ দেখায়, অপেক্ষাকৃত কম বয়সী নেতারাও জেলা পর্যায়ে নেতৃত্বে আসতে এবং নির্বাচনে জয়ী হতে পারেন।

 

দীর্ঘস্থায়ী নেতৃত্বের পেছনে কী?

জামায়াতের জেলা পর্যায়ে দীর্ঘস্থায়ী নেতৃত্বের পেছনে দলীয় কাঠামোর পাশাপাশি রাজনৈতিক ইতিহাস ও বাস্তবতাকে সামনে আনছেন অনেকে। ২০১৩ সালে হাইকোর্ট দলটির নিবন্ধন বাতিল করে। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারেনি। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার জুলাই অভ্যুথান দমাতে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট দলটিকে নিষিদ্ধ করে। তবে হাসিনার পতনের পর ২৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দলটির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। ২০২৫ সালের ১ জুন আপিল বিভাগের রায়ে দলটির নিবন্ধন ফিরে আসে।

 

দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনি প্রতিকূলতার সময়ে পরিচিত নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাকে সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা রক্ষার কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। তবে এই ব্যাখ্যা কে অবান্তর হিসেবে দেখছেন দলটির নেতৃত্বের সংস্কারপন্থী অনেক তরুণরা। জামায়াতের নেতৃত্ব নির্বাচনে গোপন ব্যালটের ব্যবস্থা থাকলেও ব্যাপারতিকে প্রশ্নবিদ্ধ প্রক্রিয়া হিসেবে ধরা হয়। কারণ কে কতো ভোট পেয়ে আমির হয়েছে, কে ভোট কম পেয়েছে তা দলটি কখনোই প্রকাশ করে না।

 

দলটি ২০২৪ সাল থেকে ১৭টি সাংগঠনিক জেলায় নতুন আমির নির্বাচিত করেছে। কিন্তু নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের গড় বয়স ৬১.৩ বছর। অর্থাৎ, নেতৃত্বে পরিবর্তন ঘটলেও বয়সের কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি।

 

[সূত্র- Banla Lens]

.fb-background-color { background: #ffffff !important; } .fb_iframe_widget_fluid_desktop iframe { width: 320px !important; }