জিএম সামদানী তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে আজ লিখেন,

 

❝আলহামদুলিল্লাহ! মহান আল্লাহর দরবারে লাখো শুকরিয়া।

গতকাল পর্যন্ত আব্বুর অসুস্থতা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা ও মানসিক অস্থিরতার মধ্যে ছিলাম। চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, আব্বু স্ট্রোক করেছেন। তাঁর পরামর্শে এমআরআই করানোর জন্য ১৪ তারিখে আব্বুকে নিয়ে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে যাই। পুরাতন ভবনের তৃতীয় তলা থেকে শুরু করে নতুন ভবনে এমআরআই করানো পর্যন্ত রাত প্রায় ১২টা বেজে যায়। প্রিয় বাবার অসুস্থতার খবর শুনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। কুমিল্লা টাওয়ার হসপিটাল এর সম্মানিত প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন ভাই রিসিট কাটানোর আগ পর্যন্ত এবং রিসিটের টাকা কমিয়ে দিয়ে ওনার স্ত্রী, সন্তানসহ বাড়িতে চলে যান। তবে গতকাল বিকেলে রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর জানতে পারি, আলহামদুলিল্লাহ, আব্বু সুস্থ আছেন। মহান আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া।

এদিকে, একটি ঘটনা নিয়ে আমাকে ঘিরে যে অভিযোগ ও আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে, সে বিষয়ে কিছু কথা বলতে চাই।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি ভাঙচুরের ঘটনায় আমাকে দোষারোপ করা হচ্ছে। অথচ ওই সময় আমি আমার অসুস্থ বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে ছিলাম। ১৪ তারিখ রাতে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে আব্বুর চিকিৎসা ও এমআরআই করানোর জন্য রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত অবস্থান করেছি। এমন পরিস্থিতিতে আমাকে নিয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা আমাকে ভীষণভাবে মর্মাহত করেছে।

আমার বাবা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ১৯৯২ সালে কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে তসলিমা নাসরিনবিরোধী আন্দোলনের সময় সন্ত্রাসী হামলায় আব্বু তাঁর একটি চোখ হারান। ইসলামী আন্দোলনের জন্য তাঁর এই আত্মত্যাগ আমাদের পরিবারের ইতিহাসের একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়।

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ কাকা আমাকে ছোটবেলা থেকে স্নেহ, ভালোবাসা ও আদর্শের শিক্ষা দিয়ে বড় করেছেন। তাঁর আদর্শ ও শিক্ষা নিয়েই আমার বেড়ে ওঠা। সেই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি ছাত্রশিবিরের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।

তাই যে সংগঠনের আদর্শ ও শিক্ষা নিয়ে আমার বেড়ে ওঠা, সেই সংগঠনের অফিসে কিংবা সংগঠনের কোনো নেতার গাড়ি ভাঙচুরের মতো ঘটনার সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে অভিযোগ করা হলে তা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। ২০১৩ সালে কুমিল্লার ডিকম্বরীতলা মোড়ে ইসলামী ছাত্র শিবিরের মিছিলের সময় পিছন থেকে হামলা করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তখন বর্তমান জামাত ইসলামের সেক্রেটারি মাহবুব ভাই এই মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাহবুব ভাইকেও তখন সন্ত্রাসীরা গায়ে আঘাত করে, আমাকে ইট দিয়ে আমার মাথায় বাড়ি মেরে হেতলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, পরবর্তীতে স্থানীয় কিছু লোকজন এবং আমার জেঠা মানুষের সাথে যুদ্ধ করে আমাকে একটি অটো রিক্সায় উঠিয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলেন। আজ সেই সংগঠনের ভাইয়েরা বলছেন।

আমি আমার বক্তব্যের মাধ্যমে কাউকে আঘাত করতে চাই না। শুধু আমার অবস্থান ও পরিস্থিতিটুকু সবার সামনে তুলে ধরতে চাই। আশা করি, সবাই বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করবেন।

সবশেষে, সবার কাছে আমার আব্বুর জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া চাই।

ইসলামী আন্দোলনের এই লড়াকু সৈনিক আজ অত্যন্ত অসুস্থ। জীবনের দীর্ঘ সময় যিনি আদর্শ ও বিশ্বাসের পথে কাটিয়েছেন, আজ তাঁর সুস্থতার জন্য আপনাদের সবার দোয়া ও ভালোবাসা আমাদের খুব প্রয়োজন।

শ্রদ্ধেয় দ্বীন মোহাম্মদ কাকা, মামুন কাকা, মোসলেহ উদ্দিন কাকা, মোশাররফ কাকা এবং মাহবুব ভাইসহ সকলের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ—আপনারা একটু সময় করে আব্বুকে দেখতে আসবেন। আব্বু আপনাদের সবাইকে সালাম জানিয়েছেন এবং আপনাদের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

মহান আল্লাহ যেন আমার আব্বুকে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করেন, তাঁর সব কষ্ট দূর করে দেন এবং তাঁকে নেক হায়াত দান করেন। আমিন।

সবাই আমার আব্বুর জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্য উপলব্ধি করার, ধৈর্য ধারণ করার এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তৌফিক দান করুন। আমিন।❞

.fb-background-color { background: #ffffff !important; } .fb_iframe_widget_fluid_desktop iframe { width: 320px !important; }