ফেনীর সাংবাদিক ও ঠিকাদার ভুঁইয়া আরাফাত তার ফেইসবুক একাউন্টে লিখেন,
❝গত দুইদিন আমার একমাত্র ফোকাস ছিল- জান্নাতুল তাজমিনের’ হ*- *ত্যা-কারী যেন ধরা পড়ে আর তার যেন সর্বোচ্চ শা’স্তি নিশ্চিত করা যায়। কারণ, এই ঘটনার অন্যান্য দিক যাই হোক, তাজমিনের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকার ছিল৷
এই ইস্যুতে আগে না লিখলেও তাজমিনের লা* *শ উদ্ধারের পর হতেই কিছু প্রশ্ন আমাকে বারবার ভাবনায় ফেলছে। কারণ আমি নিজেও দুই মেয়ের বাবা৷
মেয়ের বাবা হিসেবে যেসব থাম্বরুল আমি মেনে চলি,
বড় মেয়ে ইউনিভার্সিটি ৩য় বর্ষে পড়ে। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটা রাতও ওকে কোন বান্ধবীর বাসায় কাটাতে দেয়া হয়নি। মা সাথে না থাকলে কোন আত্মীয়ের বাসায়ও থাকতে অনুমতি দেয়া হয় না। শুধু নানুবাড়িতে ২-১ বার অনুমতি দেয়া হয়েছে।
বাসায় সাধারণত মেয়েরাই ওকে পড়িয়েছে। আরবি শিক্ষকও একজন হাফেজা ছিলেন। ছোট মেয়ের ক্ষেত্রেও একই ফর্মুলা।
৯৫% ক্ষেত্রে গাড়িতে চলাফেরা করে। দিনের বেলায় খুবই ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে ইউনিভার্সিটি হতে সিএনজিতে আসে৷
কলেজে একবার একাউন্টিং কোচিং-এ দিয়েছিলাম। কলেজ টিচারকে মাঝেমধ্যে কল দিয়ে চেক করতাম- ক্লাস করছে কিনা।
মেয়েরা কোথাও গেলে বাসায় আসা পর্যন্ত সহধর্মিণী ঘড়ি ধরে মনিটরিং করে। ছোটটার স্কুল ছুটির সময় বাসায় ফেরা পর্যন্ত অস্থির হয়ে থাকে।
আমার ধারণা ৯০% মেয়ের বাবা-মাই এসব রুল ফলো করেন।
এবার প্রশ্নগুলো করি….
‘তাজমিনের’ জুম করা ছবিটা একটু আগে দেখলাম। মিডিয়া বলছিল ও ক্লাস সেভেনে পড়ে। সেই হিসেবে ওর বয়স ১২-১৩। পত্রিকায় অবশ্য ১৫ বছরও লেখা হয়েছে।
কিন্তু ছবিটা দেখুন। ওর আত্মবিশ্বাসী চলাফেরা, শারীরিক গড়ন, লেডিজ ব্যাগ ঝুলানো কিংবা চুল বাঁধার ধরণ পুরোই পরিণত বয়সের তরুণীদের মত। এমনকি মধ্যরাতেও বস লেডি, বস লেডি ভাবসাব নিয়ে ওর চলাফেরাটা ছিল একদম ভয়ডরহীন।
টিভি সাক্ষাৎকারগুলো দেখে ‘জান্নাতুল তাজমিনের’ পরিবারকে আইফোন ব্যবহার করার মতো সচ্ছল বলে মনে হয়নি। তাহলে একটা ক্লাস সেভেনের মেয়ের হাতে আইফোন কোথায় থেকে এলো। এটা কি কক্সবাজার ট্রিপের সাথে কোনভাবে সম্পর্কিত? তাজমিন কি এই পরিবারের উপার্জনের কোন উৎস ছিল?
ওর বাবা-মা কি তবে জানতেন মেয়ে কোথায় যাচ্ছে? এজন্যই কি নির্বিকার ছিলেন? পুলিশে জিডি করেননি। ফেসবুকে পোস্ট দেননি। ৯৯৯ কল দেননি। অস্থির হয়েও যাননি? আবার এটাও শুনেছি ‘তাজমিন’ গত ছ’মাস ধরে স্কুলেও যায়নি! তাহলে স্কুলের নাম করে কোথায় যেত?
মধ্যরাতে মেয়ে বাস কাউন্টারে নামবে বাবাকে জানিয়েছিল৷ বাবা-মা নিশ্চিন্তে ঘুম দিয়েছিলেন। কারণ ‘তাজমিন’ সম্ভবত এভাবেই একটা তাগড়া যুবকের মতোন বহুবার বাসায় ফিরেছে। সেই রাতে সুমন মিয়ার সিএনজিতে চড়াটা ছিল নিছক দুর্ভাগ্য।
আমি আপনি হলে কোনদিন অন্ধকার রাস্তায় কিশোরী মেয়েকে ৪০ মিনিট দূরত্বে একটা সিএনজি চালকের সাথে ভ্রমণ করতে দিতাম?
এরকম পরিস্থিতিতে তো পুরুষরাও নিরাপদ ফিল করবে না, তাও হাতে আইফোন নিয়ে৷
মেয়ের নি*তিত *শ উদ্ধারের পরেও তাজমিনের বাবা-মায়ের প্রতিক্রিয়া ছিল অস্বাভাবিক রকম নির্লিপ্ত। মেয়ের এই ৪ দিনের অনুপস্থিতি নিয়েও উনারা মুখ খুলেননি৷
কক্সবাজার নি:সন্দেহে একা যায়নি তাজমিন। কার সাথে গিয়েছিল, কার সাথে ছিল এই দুইদিন? প্রত্যেক হোটেলেই সিসিটিভি ফুটেজ থাকার কথা। আবার খবরে এসেছে- মাত্র ১৭ দিনের প্রেমিকের সাথে দেখা করতে চলে গিয়েছিল।
আমি আরো অনেক প্রশ্ন করতে পারি। আপাতত এটুকুই থাকুক। তাজমিনের বাবা-মা মনে হয় না, এগুলোর উত্তর দিবেন। তবে পরিস্থিতির বিচারে কিশোরী কন্যার *ত্যুর দায় উনাদেরও। দেশের নড়েচড়ে আইন ব্যবস্থার জন্য সরকারের দায় তো আছেই, তবুও পরিবার দায় এড়াতে পারে না!❞
লেখক: ভুঁইয়া আরাফাত
সাংবাদিক ও ঠিকাদার, ফেনী