খ্যাতিমান সোশ্যাল এক্টিভিস্ট লাবিব আহসান তাঁর ফেইসবুকে লিখেন,

❝মির্জা ফখরুলের বাসা ঘিরে ফেলেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হবে বিএনপি মহাসচিবকে। তখন গভীর রাত। মহাসচিবের ইস্পাত-দৃঢ় জীবনসঙ্গীনি রাহাত আরা বেগম বজ্রকণ্ঠে গৃহাভ্যন্তর থেকে কথা বললেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন অফিসারের সঙ্গে। এই গভীর রাতে স্বামীকে তাদের হাতে তুলে দেবেন না তিনি। গ্রেপ্তার করতে হলে ভোর হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

পুলিশ সদস্যরা মহাসচিব-পত্নীর সঙ্গে তর্কে পেরে উঠল না। ঝিম ধরে ভোর হবার অপেক্ষা করতে লাগল তারা। এর মধ্যেই রাহাত আরা বেগম সাংবাদিক কল করলেন। তারা ভোরে এসে উপস্থিত হলে সকল মিডিয়ার সামনে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হলো মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। এত সবের কিছুই শিখিয়ে দেননি তিনি স্ত্রীকে। রাহাত আরা নিজ বুদ্ধিতে করেছেন।

আরও ফ্ল্যাশব্যাকে যেতে হবে। আশির দশকের শেষভাগ। অর্থনীতির ঝানু শিক্ষক মির্জা ফখরুলকে এলাকার লোকজন শক্ত করে ধরেছে–পৌর মেয়র নির্বাচন করতে হবে। তখনো তিনি বিএনপি করেন না। পড়লেন অথৈ পানিতে। স্ত্রী আর ছোট ছোট দুই কন্যা ঢাকায়। তাদের রেখে ঠাকুরগাঁও গিয়ে টানা মাসের পর মাস পড়ে থাকতে হবে।রাহাত আরা স্বামীকে বললেন, ‘তুমি যাও। আমি চাকরি আর সংসার সামলে নেবো।’ মির্জা সাহেবের চোখ অশ্রুসিক্ত হলো।

পৌর মেয়র থেকে দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন মির্জা আলমগীর। সবখানে তাঁর গুণকীর্তন। অথচ একজন রাহাত আরা বেগম সেখানে কী নিদারুণভাবে অনুপস্থিত! নেই সেই আলাপটা–কতটা ত্যাগ স্বীকার করে নারীরা স্বামীদের এগিয়ে দেন বিজয়ের পথে। মির্জা ফখরুল কিন্তু ঠিকই মিডিয়ার কাছে স্ত্রীর অবদানের স্বীকৃতি দিলেন! বহুবছর আগে এভাবেই স্বীকৃতি দিয়েছিলেন মাওলানা মওদূদী–’লোকেরা যখন স্লোগান দেয়, “মাওলানা মওদূদী জিন্দাবাদ”, আমি তখন মনে মনে বলি, “বেগম মওদূদী জিন্দাবাদ।”‘❞

‘আলোকের আড়ালে’/ লাবিব আহসান

.fb-background-color { background: #ffffff !important; } .fb_iframe_widget_fluid_desktop iframe { width: 320px !important; }